জ্ঞানভাণ্ডার

ziyarat e ashura

যিয়ারতে আশুরার বাংলা অনুবাদ

اَعْظَمَ اللهُ اُجُوْرَنَا وَاُجُوْرَكُمْ بِمُصَابِنَا بِالْحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَجَعَلَنَا وَاِيَّاكُمْ مِنَ الطَّالِبِيْنَ بِثَارِهِ مَعَ  وَلِيِّهِ الْاِمَامِ الْمَهْدِىِّ مِنْ اٰلِ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ۔

اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَاۤ اَبَا عَبْدِ اللهِ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَابْنَ رَسُوْلِ الله اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا بْنَ اَمِيْرِ المُؤْمِنِيْنَ وَ ابْنَ سَيِدِ الْوَصِيِّيْنَ  اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا بْنَ فَاطِمَةَ سَيِدَةِ  نِسَاۤءِ الْعَالَمِيْنَ

হে আবা আব্দুল্লাহ (ইমাম হুসাইন আ ’র উপাধি)! আপনার প্রতি সালাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা)’র সন্তান! আপনার প্রতি সালাম, হে আমিরুল মুমিনীনের সন্তান এবং মুসলমানদের অভিভাবক বা ওয়াসিকুলের নেতার সন্তান! আপনার প্রতি সালাম, হে বিশ্বের নারীকুল নেত্রীর সন্তান! আপনার প্রতি সালাম,

اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا ثَارَ اللهِ وَ ابْنَ ثَارِهَ وَالْوِتْرَ الْمَوْتُوْرَ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ وَ عَلَي الْاَرْوَاحِ الَّتِيْ حَلَّتْ بِفِنَاۤئِكَ

হে আল্লাহর নির্বাচিত (আল্লাহর সব কল্যাণকর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে) ও নির্বাচিত ব্যক্তির সন্তান! আপনার প্রতি সালাম। আপনার প্রতি সালাম যিনি আল্লাহর খুন তথা আল্লাহর (ধর্মের) জন্য বীরত্বপূর্ণভাবে যুদ্ধ করে শহীদ বা কুরবানি হয়েছেন এবং যিনি আল্লাহর জন্য কুরবানি হওয়া ব্যক্তির সন্তান এবং আপনাকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল ও বিদ্বেষ নিয়ে আপনার ওপর হামলা করা হয়েছিল। (আপনি ঐ মহান ব্যক্তি, যার নিজের ও পিতার রক্তের প্রতিশোধ এবং আপনার প্রতি অবিচার ও জুলুমের বিচার স্বয়ং প্রভুই গ্রহণ করবেন) আপনার প্রতি সালাম এবং তাঁদের পবিত্র আত্মার প্রতি যাঁদের আত্মা আপনার পবিত্র আস্তানায় সমবেত হয়েছে

عَلَيْكُمْ مِنِّيْ جَمِيْعًا سَلَامُ اللهِ اَبَدًا مَا بَقِيْتُ وَ بَقِيَ اللَّيْلُ وَ النَّهَارُ

আপনাদের সকলের (ইমাম ও তাঁর সাথীবর্গ) উপর অনন্তকাল যাবত আমার দরুদ ও সালাম। আপনাদের উপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক যতদিন আমি আছি, ও এই বিশ্বে দিবা-নিশির আবর্তন ঘটে।

يَاۤ اَبَا عَبْدِ اللهِ، لَقَدْ عَظُمَتِ الرَّزِيَّةُ وَ جَلَّتْ وَ عَظُمَتِ الْمُصِيْبَةُ بِكَ عَلَيْنَا وَ عَلٰي جَمِيْعِ اَهْلِ الْاِسْلَامِ وَ جَلَّتْ وَ عَظُمَتْ مُصِيْبَتُكَ فِيْ  السَّمٰوَاتِ عَلٰي جَمِيْعِ اَهْلِ السَّمٰوَاتِ

হে আবা আব্দুল্লাহ! আল্লাহর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আপনার ওপর। আমাদের ও প্রত্যেক খাঁটি মুসলমানের জন্য সেসব ঘটনা ছিল হৃদয়-বিদারক ও অসহনীয় যন্ত্রণাদায়ক ছিল যা আপনারা মোকাবেলা করেছেন। আপনাদের ওপর যেসব জুলুম ও অপরাধ চালানো হয়েছে আসমানে অবস্থানকারী সকলের জন্য তা ছিল চরম বেদনাময় ও মর্মস্পর্শী।

فَلَعَنَ اللهُ اُمَّةً اَسَّسَتْ اَسَاسَ الظُّلْمِ وَ الجَوْرِ عَلَيْكُمْ اَهْلَ الْبَيْتِ

তাই আল্লাহর অভিশাপ তাদের ওপর যারা আপনাদের এবং রাসুল (সঃ) -এর আহলে বাইতের প্রতি অত্যাচারের ভিত্তি রচনা করেছে।

وَلَعَنَ اللهُ اُمَّةً دَفَعَتْكُمْ عَنْ مَقَامِكُمْ وَ اَزَالَتْكُمْ عَنْ مَرَاتِبِكُمُ الَّتِيْ رَتَّبَكُمُ اللهُ فِيْهَا

এ ছাড়াও আল্লাহর অভিশাপ তাদের ওপর যারা আপনাদের যথার্থ অবস্থান[খেলাফত] গ্রহণে বাধা দিয়েছিল এবং প্রভু আপনাদের যে বিশেষ পদ দান করেছিলেন তা ছিনিয়ে নিয়েছে।

وَ لَعَنَ اللهُ اُمَّةً قَتَلَتْكُمْ وَ لَعَنَ اللهُ الْمُمَهِّدِيْنَ لَهُمْ بِا لتَّمْكِيْنِ مِنْ قِتَالِكُمْ

যারা আপনাদের শহীদ করেছে ও এ কাজে উস্কানী দিয়েছে তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক।

بَرِئْتُ اِلَي اللهِ وَ اِلَيْكُمْ مِنْهُمْ وَ اَشْيَاعِهِمْ وَ اَتْبَاعِهِمْ وَ اَوْلِيَاۤئِهِمْ

হে আল্লাহ! আমি আপনার দিকে মুখ ফিরাচ্ছি এবং মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি তাদের দিক থেকে যারা আপনাদের হত্যায় দুর্নীতিপরায়ণ ও অত্যাচারী সরকারের প্রতি সম্মতি ও সমর্থন দিয়েছে। হে আবা আব্দুল্লাহ আমি ঐ সকল অত্যাচারী ও তাদের অনুসারী, অনুগামী ও সাথীদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে প্রভু ও আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

يَاۤ اَبَا عَبْدِ اللهِ اِنِّيْ سِلْمٌ ِلِمَنْ سَالَمَكُمْ وَ حَرْبٌ لِمَنْ حَارَبَكُمْ اِلٰي يَوْمِ الْقِيٰمَةِ

হে আবা আব্দুল্লাহ! যারা আপনার সাথে বন্ধুত্ব করে আমি কেয়ামত পর্যন্ত তাদের বন্ধু আর যারা আপনার সাথে যুদ্ধে (শত্রুতা) লিপ্ত হয়, আমি কেয়ামত পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করি।

وَ لَعَنَ اللهُ اٰلَ زِيَادٍ وَ اٰلَ مَرْوَانَ وَلَعَنَ اللهُ بَنِيۤ اُمَيَّةَ قَاطِبَةً

আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক জিয়াদের ও মারওয়ান বিন হিকামের বংশধরদের উপর। আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক বনি উমাইয়াদের উপর- চরম অভিশাপ

وَ لَعَنَ اللهُ بْنَ مَرْجَانَةَ وَ لَعَنَ اللهُ عُمَرَبْنَ سَعْدٍ وَ لَعَنَ اللهُ شِمْرًا،

মার্জানার পুত্রের উপর প্রভুর অভিশাপ বর্ষিত হোক। ওমর সা’দের উপর প্রভুর অভিশাপ বর্ষিত হোক। শীমার জিল জৌশানের উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর অভিশাপ।

وَلَعَنَ اللهُ اُمَّةً اَسْرَجَتْ وَاَلْجَمَتْ وَ تَنَقَّبَتْ لِقِتَالِكَ

ওদের সবার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। যারা ইমাম হুসাইন (আ) এর সাথে যুদ্ধের জন্য ঘোড়াদের সজ্জিত করেছিল এবং আপনাদের উপর অতর্কিত আক্রমণ করেছিল। যারা আপনার সাথে যুদ্ধে অগ্রসরে প্রস্তুত হয়েছিল।

بِاَبِيۤ اَنْتَ وَ اُمِّيْ لَقَدْ عَظُمَ مُصَابِيْ بِكَ فَاَسْئَلُ اللهَ الَّذِيۤ اَكْرَمَ مَقَامَكَ وَ اَكْرَمَنِيْ اَنْ يَّرْزُقَنِيْ طَلَبَ ثَارِكَ مَعَ اِمَامٍ مَنْصُوْرٍ مِنْ اَهْلِ بَيْتِ مُحَمَّدٍ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ

আমার বাবা মা আপনার জন্য উতসর্গীকৃত হোক, আপনার উপর আরোপিত অত্যাচার ও নৃশংসতার শোক সম্ভার আমাদের হৃদয়কে অসহনীয় বেদনাতুর ও মর্মাহত করে তুলেছে। তাই যে প্রভু আপনার অবস্থানকে উন্নত করেছেন এবং আপনার ভালবাসার মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করেছেন, তাঁরই কাছে প্রার্থনা করি। হে প্রভু আমাকে এমন একদিনের সৌভাগ্য দাও যেদিন মুহাম্মদ (সঃ) ও তাঁর আহলে বাইতগণ (আ)’র সদস্য ইমাম হযরত মাহদী (আ) কে সহযোগিতা করে আপনার রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম হতে পারি। (Arabic missing)

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ عِنْدَكَ وَجِيْهًا بِا الْحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِيْ الدُّنْيَا وَ الْاٰخِرَةِ

হে প্রভু! আমাকে ইমাম হুসাইন (আ)’র [শাফায়াত ও ভালবাসার] মাধ্যমে আপনার কাছে ইহকাল ও পরকালে সম্মানিত ও সৌভাগ্যমন্ডিত কর।

يَاۤ اَبَا عَبْدِ اللهِ اِنِّيۤ اَتَقَرَّبُ اِلَي اللهِ وَ اِلٰي رَسُوْلِهِ وَ اِلٰيۤ اَمِيْرِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَ اِلٰي فَاطِمَةَ وَاِلَي الْحَسَنِ وَ اِلَيْكَ بِمُوَالَاتِكَ وَ بِالْبَرَاۤئَةِ مِمَّنْ اَسَّسَ اَسَاسَ ذٰلِكَ وَ بَنٰي عَلَيْهِ بُنْيَانَهُ وَ جَرٰي فِيْ ظُلْمِهِ وَجَوْرِهِ عَلَيْكُمْ وَ عَلٰيۤ اَشْيَاعِكُمْ

হে আবা আব্দুল্লাহ! আমি প্রভুর দরবারের নৈকট্য প্রার্থনা করি, একই সাথে হযরত রাসুল (সঃ), আমিরুল মুমেনীন (আ), ফাতেমা (সা), হাসান (আ) ও আপনার নৈকট্য প্রার্থনা করি। এ নৈকট্য প্রার্থনার মাধ্যম হল আপনার প্রতি ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব এবং আপনাদের আহলে বাইত (আ) দের প্রতি অন্যায় ও অত্যাচারের ভিত্তি রচয়িতাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন আরও ঘৃণা প্রদর্শন করি যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে। প্রভুর দরবারে ও আপনারা আল্লাহর প্রতিনিধি, আপনাদের কাছে ঐ অত্যাচারী ও জালিম লোকদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করেছি।

بَرِئْتُ اِلَي اللهِ وَ اِلَيْكُمْ مِنْهُمْ وَ اَتَقَرَّبُ اِلَي اللهِ ثُمَّ اِلَيْكُمْ بِمُوَالَاتِكُمْ وَ مُوَالَاةِ وَلِيِّكُمْ وَ بِالْبَرَاۤئَةِ مِنْ اَعْدَاۤئِكُمْ وَ النَّاصِبِيْنَ لَكُمُ الْحَرْبَ وَبِالْبَرَاۤئَةِ مِنْ اَشيَاعِهمْ وَ اَتْبَاعِهِمْ

প্রভুর দরবারে প্রথমে নৈকট্য প্রার্থনা করি অতঃপর আপনাদের [আল্লাহর প্রতিনিধি]। আপনার প্রতি ভালবাসা ও আপনাদের বন্ধুদের প্রতি বন্ধুত্বের মাধ্যমে, এবং আপনাদের শত্রুদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে আর যারা আপনাদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে, আপনাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, একই সাথে তাঁদের অনুসারী ও অনুগামীদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করি।

اِنِّيْ سِلْمٌ لِمَنْ سَالَمَكُمْ وَ حَرْبٌ لِمَنْ حَارَبَكُمْ وَوَلِيٌّ لِمَنْ وَالَاكُمْ وَ عَدُ وٌّ لِمَنْ عَادَاكُمْ

হে ইমাম যারা আপনাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখে তারা আমার বন্ধু আর যারা আপনাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের সাথে আমি যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। যারা আপনাদের সাথে বন্ধুত্ব করে আমি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করি। আর যারা আপনাদের সাথে শত্রুতা করে আমিও তাদের সাথে শত্রুতা করি।

فَاَسْئَلُ اللهَ الَّذِىۤ اَكْرَمَنِىْ بِمَعْرِ فَتِكُمْ وَ مَعْرِفَةِ اَوْلِيَاۤئِكُمْ وَ رَزَقَنِى الْبَرَاۤئَةَ مِنْ اَعْدَاۤئِكُمْ اَنْ يَجْعَلَنِىْ مَعَكُمْ فِىْ الدُّنْيَا وَ الْاٰخِرَةِ وَ اَنْ يُّثَبِّتَ لِىْ عِنْدَ كُمْ قَدَمَ صِدْقٍ فِىْ الدُّنْيَا وَ الْاٰخِرَةِ

তাই মহান প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমাকে আপনাদের বন্ধুত্বে ও যথার্থ পরিচিতির মাধ্যমে ধন্য করেন। একই সাথে আপনাদের শত্রুদের প্রতি সর্বদা ঘৃণা প্রদর্শনকে আমার জীবিকায় পরিণত করে দেন। আমাদেরকে যেন দুনিয়া ও আখেরাতে আপনাদের সাহচর্য দান করেন এবং পৃথিবী ও পরকালে আপনাদের সত্য অবস্থানের পথে আমাকে সুদৃঢ় রাখেন।

وَ اَسْئَلُهُ اَنْ يُّبَلِّغَنِىَ الْمَقَامَ الْمَحْمُوْدَ لَكُمْ عِنْدَ اللهِ وَ اَنْ يَّرْزُقَنِىْ طَلَبَ ثَارِىْ مَعَ اِمَامٍ هُدًى ظَاهِرٍ نَاطِقٍ بِالْحَقِّ مِنْكُمْ

পুনরায় প্রভুর কাছে আবেদন করি, আপনাদের জন্য নির্ধারিত ‘মাহমুদ’ অবস্থানে আমাকেও [ক্ষমতানুযায়ী] উত্তীর্ণ করেন। প্রভু যেন আমার সৌভাগ্যে রাখেন, যাতে আবির্ভাবকারী সত্যভাষী ইমাম মাহদী (আ) এর সাথে আপনাদের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী হিসেবে থাকতে পারি

وَ اَسْئَلُ اللهَ بِحَقِّكُمْ وَ بِالشَّاْنِ الَّذِىْ لَكُمْ عِنْدَهٗ اَنْ يُّعْطِيَنِىْ بِمُصَابِىْ بِكُمْ اَفْضَلَ مَا يُعْطِىْ مُصَابًا بِمُصِيْبَتِهٖ مُصِيْبَةً مَاۤ اَعْظَمَهَا وَ اَعْظَمَ رَزِيَّتَهَا فِىْ الْاِسْلَامِ وَ فِىْ جَمِيْعِ اَھْلِ السَّمٰوَاتِ وَ الْاَرْضِ

প্রভুর দরবারে আপনাদের যথার্থ সম্মান ও নৈকট্যশীল অবস্থানের উসিলায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আপনাদের অসহনীয় শোকে শোকাহত মূর্ছাহত হওয়ার সওয়াব প্রতি শোকাহতকে উত্তম সওয়াব দান করেন। আমাকেও যেন ঐ পুণ্য দান করেন। আপনাদের (আহলে বাইত) শোক মুসলিম বিশ্বকে বরং সমগ্র বিশ্ব আসমান ও জমিনের প্রতি ছিল অসহনীয় বেদনাতুর। আর শোকাহতদের প্রতি অসহনীয়।

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِىْ فِىْ مَقَامِىْ هٰذَا مِمَّنْ تَنَالُهُ مِنْكَ صَلَوَاتٌ وَ رَحْمَةٌ وَ مَغْفِرَةٌ

হে প্রভু আমি এখন যে অবস্থানে আছি আমাকে তাঁদের শান্তি অনুগ্রহ, ও ক্ষমা থেকে আমাকেও পরিতৃপ্ত কর।

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ مَحْيَاىَ مَحْيَا مُحَمَّدٍ وَّ اٰلِ مُحَمَّدٍ، وَ مَمَاتِىْ مَمَاتَ مُحَمَّدٍ وَّ اٰلِ مُحَمَّدٍ

হে প্রভু আমাকে মুহাম্মদ (স) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত (আ) এর ধর্মে জীবিত রাখ এবং ঐ আদর্শে মৃত্যুবরণ করাও।

اَللّٰهُمَّ اِنَّ هٰذَا يَوْمٌ تَبَرَّكَتْ بِهٖ بَنُوْ اُمَيَّةَ وَابْنُ اٰكِلَةِ الْاَكْبَادِ اللَّعِيْنُ ابْنُ اللَّعِيْنِ عَلٰى لِسَانِكَ وَ لِسَانِ نَبِيِّكَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَاٰلِهٖ فِىْ كُلِّ مَوْطِنٍ وَ مَوْقِفٍ وَ قَفَ فِيْهِ نَبِيُّكَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهٖ

হে প্রভু আজকের [আশুরা] এদিন, যেদিনে উমাইয়া বংশের কলিজা ভক্ষণকারী নারীর [হিন্দা] পুত্র ও অভিশপ্ত মুয়াবিয়ার অভিশপ্ত ও অপবিত্র পুত্র ইয়াজিদকে আপনার ভাষায় এবং আপনার রাসুল (স) এর ভাষায় [অভিসম্পাত কর] আপনার রাসুল (সঃ) যে সকল স্থান ও অবস্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন, (সকল স্থানে তাদেরকে অভিসম্পাতের মাধ্যমে স্মরণ করেছেন)

اَللّٰهُمَّ الْعَنْ اَبَا سُفْيَانَ وَ مُعَاوِيَةَ وَ يَزِيْدَ بْنَ مُعَاوِيَةَ عَلَيْهِمْ مِنْكَ اللَّعْنَةُ اَبَدَ الْاٰبِدِيْنَ وَ هٰذَا يَوْمٌ فَرِحَتْ بِهٖ اٰلُ زِيَادٍ وَ اٰلُ مَرْوَانَ بِقَتْلِهِمُ الْحُسَيْنَ صَلَوٰاتُ اللهِ عَلَيْهِ اَللّٰهُمَّ فَضَاعِفْ عَلَيْهِمُ الَّعْنَ مِنْكَ وَ الْعَذَابَ الْاَلِيْمَ

হে প্রভু আবু সুফিয়ানের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ কর ও তার পুত্র মু’য়াবিয়া এবং তার পুত্র ইয়াজিদ, এদের সকলের উপর অনন্ত অভিশাপ বর্ষণ কর। আজকের [আশুরার] এদিন যে দিন আলে জিয়াদ বিন আবিহা ও আলে মারওয়ান বিন হিকাম যারা ইমাম হুসাইনকে (আ) হত্যার মাধ্যমে আনন্দ করেছিল, হে প্রভু আপনিই আপনার অভিসম্পাত ও কঠিন শাস্তিকে তাদের উপর কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে দাও।

اَللّٰهُمَّ اِنِّىۤ اَتَقَرَّبُ اِلَيْكَ فِىْ هٰذَا الْيَوْمِ وَ فِىْ مَوْقِفِىْ هٰذَا وَ اَيَّامِ حَيٰوتِىْ بِالْبَرَاۤئَةِ مِنْهُمْ وَ اللَّعْنَةِ عَلَيْهِمْ وَ بِاالْمُوَالَاتِ لِنَبِيِّكَ وَ اٰلِ نَبِيِّكَ عَلَيْهِ وَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ۔

হে প্রভু আমি আজকের এদিনে এই স্থানে ও জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন ও জালিমদের উপর অভিসম্পাত ও শত্রুতা করি এবং আপনার নবী ও তাঁর আহলে বাইত (আ)’র প্রতি ভালবাসার মাধ্যমে আপনার নৈকট্য প্রার্থনা করি।

اَللّٰهُمَّ الْعَنْ اَوَّلَ ظَالِمٍ ظَلَمَ حَقَّ مُحَمَّدٍ وَ اٰلِ مُحَمَّدٍ، وَ اٰخِرَ تَابِعٍ لَهٗ عَلٰى ذٰلِكَ اَللّٰهُمَّ الْعَنِ الْعِصَابَةَ الَّتِىْ جَاهَدَتِ الْحُسَيْنَ (عَلَیْہِ السَّلَامُ) وَ شَايَعَتْ وَ بَايَعَتْ وَ تَابَعَتْ عَلٰى قَتْلِهٖ، اَللّٰهُمَّ الْعَنْهُمْ جَمِيْعًا۔

হে প্রভু আপনি তাদের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন যারা মুহাম্মদ ও তাঁর আহলে বাইতগন (আ)’র প্রতি প্রথম জুলুম করেছে এবং সর্বশেষ জালিম যে, প্রথম জালিমকে তার জুলুমের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছে। হে প্রভু যে লোকেরা ইমাম হুসাইন (আ) এর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, তাদের উপর অভিসম্পাত বর্ষণ কর। আর তাদের অনুসারী অনুগামী ও তাদের আনুগত্য স্বীকারকারীদের প্রত্যেকের উপর অভিশাপ বর্ষণ কর।

اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَاۤ اَبَا عَبْدِ اللهِ وَ عَلَى الْاَرْوَاحِ الَّتِىْ حَلَّتْ بِفِنَاۤئِكَ عَلَيْكَ مِنِّىْ سَلَامُ اللهِ  اَبَدًا مَّا بَقِيْتُ وَ بَقِيَ اللَّيْلُ وَ النَّهَارُ وَ لَا جَعَلَهُ اللهُ اٰخِرَ الْعَهْدِ مِنِّىْ لِزِيَارَتِكُمْ، اَلسَّلَامُ عَلَى الْحُسَيْنِ وَ عَلٰى عَلِىِّ بْنِ الْحُسَيْنِ وَ عَلٰى اَوْلَادِ الْحُسَيْنِ وَ عَلٰى اَصْحَابِ الْحُسَيْنِ۔

হে আবা আবদুল্লাহ! আপনার প্রতি ও আপনার পবিত্র সত্তার প্রতি সালাম, যে সত্তা সমাধিত হয়েছে। আমার পক্ষ থেকে আল্লাহর সালাম অনন্তকাল ব্যাপী, যতদিন এই দিবা-নিশি অবিচল আছে। প্রভু যেন এ জিয়ারতকেই আমার জীবনের শেষ জিয়ারতে পরিণত করে না দেন। ইমাম হুসাইন (আ)’র সন্তানগণ ও ইমাম হুসাইন (আ)’র সাথীদের প্রতি সালাম।

اَللّٰهُمَّ خُصَّ اَنْتَ اَوَّلَ ظَالِمٍ بِاللَّعْنِ مِنِّىْ وَابْدَاْ بِهٖ اَوَّلًا ثُمَّ الثَّانِيْ وَ الثَّالِثَ وَ الرَّابِعَ اَللّٰهُمَّ الْعَنْ يَزِيْدَ خَامِسًا وَ الْعَنْ عُبَيْدَ اللهِ بْنَ زِيَادٍ وَابْنَ مَرْجَانَةَ وَ عُمَرَبْنَ سَعْدٍ وَ شِمْرًا وَ اٰلَ اَبِيْ سُفْيَانَ وَ اٰلَ زِيَادٍ وَ اٰلَ مَرْوَانَ اِلىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ۔

হে প্রভু আমার অভিসম্পাতকে আহলে বাইত (আ)’র উপর প্রথম অত্যাচারী জালিমের জন্য নির্ধারিত করে দাও, যে অত্যাচার দ্বারা সে অত্যাচারের সূচনা করেছিল। অতঃপর দ্বিতীয় অত্যাচারী, এরপর তৃতীয় অত্যাচারী, তারপর চতুর্থ জালিমের উপর [আমার অভিশাপ বর্ষণ কর]। হে প্রভু পঞ্চম ব্যক্তি ইয়াজিদের উপর অভিশাপ বর্ষণ কর। আব্দুল্লাহ বিন জিয়াদ ও ইবনে মারজানাহ, ওমর বিন সা'দ, শীমার, আলে আবু সুফিয়ান, আলে জিয়াদ, আলে মারওয়ান, এদের সকলের উপর কিয়ামত পর্যন্ত অভিশাপ বর্ষণ কর।

اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ حَمْدَ الشَّاكِرِيْنَ لَكَ عَلٰى مُصَابِهِمْ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰى عَظِيْمِ رَزِيَّتِىْ اَللّٰهَمَّ ارْزُقْنِىْ شَفَاعَةَ الْحُسَيْنِ (عَلَیْہِ السَّلَامُ) يَوْمَ الْوُرُوْدِ وَ ثَبِّتْ لِىْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَكَ مَعَ الْحُسَيْنِ وَ اَصْحَابِ الْحُسَيْنِ، الَّذِيْنَ بَذَلُوْا مُهَجَهُمْ دُوْنَ الْحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ۔

হে প্রভু আমি আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি প্রকৃত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারীদের ন্যায়। আহলে বাইত (আ) এর শোকে আমি যে শোকার্ত আমার এ আজাদারী ও শোকানুভুতিতে আল্লাহর প্রশংসা। হে প্রভু যেদিন আপনার সম্মুখে দণ্ডায়মান হব সেদিন ইমাম হুসাইন (আ)’র শাফায়াত আমার ভাগ্যে রাখ। আর আপনার কাছে হুসাইন (আ) ও তাঁর যে সকল সাথীরা খোদার পথে জীবন উৎসর্গ করেছে তাঁদের সাথে আমাকে আপনার কাছে সত্যে অবিচল রাখ।